1. admin@bdigestbd.com : admin :
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

মগবাজারের ঘটনায় জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা দাবি সংসদে

  • আপডেট : সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
  • ৬৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক->>>
রাজধানীর মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতির দাবি উঠেছে সংসদে। সোমবার সংসদের বৈঠকে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির দুই সংসদ সদস্য অনির্ধারিত আলোচনায় এ দাবি তোলেন।পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে আলোচনার শুরু করেন জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু।

তিনি বলেন, গত রাতে মগবাজারে শিশুসহ সাতজন মারা গেছেন। অনেকেই আহত হয়েছেন। আমাদের প্রশ্নটা হল, ঢাকা শহরে যেসব হোটেল বা রেস্টুরেন্ট আছে, সেগুলিতে গ্যাস যে ব্যবহার হয়, সেই সিলিন্ডার বা স্টোভ কখনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শকের মাধ্যমে ইনসপেকশন হয় কিনা? এই প্রশ্নটা সামনে আসছে।

আগে দেখেছি বিভিন্ন গাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে অনেক দুর্ঘটনা হয়েছে, অনেকে মারা গেছে। মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আমি জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, এই যে ঘটনা ঘটল, সেটি যদি গ্যাসের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে কী কারণে ঘটল?

গ্যাসের যে স্টোভ ছিল, সেটা কোনো সময় ইনসপেকশন হয়েছিল? সেটা কী অবস্থায় ছিল? যে সমস্ত জায়গায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার হয় বা মজুদ করা হয়, সেখানে প্রয়োজনীয় ইনসপেকশন হয় কি না? যদি না করা হয়, তা যেন করা হয়। সংসদে যাতে গতরাত্রের ঘটনার কারণ, প্রতিকার এবং যাদের কারণে এই যে মানুষগুলো মারা গেল, তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হবে কিনা, সে বিষয়ে সংসদে একটি বিবৃতি দেওয়ার দাবি রাখছি।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে ঢাকার মগবাজার ওয়্যারলেস গেইট এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের ধাক্কায় আড়ং, বিশাল সেন্টারসহ আশপাশের ডজনখানেক ভবনের কাচ ভেঙে পড়ে।

পরে দেখা যায়, আড়ংয়ের উল্টো দিকে আউটার সার্কুলার রোডের ৭৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের তিনতলা ভবনটির প্রায় ধসে পড়ার দশা হয়েছে। ওই ভবনের দোতলায় সিঙ্গারের বিক্রয় কেন্দ্র ছিল। নিচতলায় খাবারের দোকান শরমা হাউজ ও বেঙ্গল মিটের বিক্রয় কেন্দ্র ছিল, যা মিশে গেছে। লোহার গ্রিল, আসবাবপত্র, ভবনের বিভিন্ন অংশ ছিটকে এসেছে রাস্তায়।

সড়কের উপর আটকে থাকা দুটি ক্ষতিগ্রস্ত বাসের ভেতরে যাত্রীদের রক্ত আর জিনসপত্র পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঢাকার পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাতজনের মৃত্যুর কথা সাংবাদিকদের জানান। ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে অন্তত চারশ মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন রাস্তায়; বিস্ফোরণের ধাক্কায় এবং কাচের টুকরো লেগে তারা আহত হন।

মগবাজারের ঘটনায় জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা দাবি সংসদে

চুন্নুর পর বিএনপির হারুনুর রশীদ সংসদে বলেন, “গতবছর নারায়ণগঞ্জে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ৪০ জনের অধিক মানুষ মারা গিয়েছে। অনেকে আহত হয়েছেন। গতকাল রাপজধানীর মগবাজারের মত ব্যস্ততম জায়গায় যে ঘটনা ঘটল, এর দায় সরকারকে নিতে হবে।”

এখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী নাই। বিদ্যুৎ জ্বালানি বিভাগের যারা দায়িত্বে আছে। যত্রতত্র যেখানে সেখানে রেস্টুরন্টে গড়ে উঠছে। এগুলোর সেইফটি আছে কিনা? আমরা বিভিন্ন দেশে ঘুরে দেখি সেখানে লেখা থাকে সেইফটি ফার্স্ট। কিন্তু বাংলাদেশে কী অবস্থা!

এইভাবে আজকে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। তার ছিঁড়ে পড়ে পানির উপর লোক মারা যাচ্ছে। এই কাজগুলো বিদ্যুৎ বিভাগের, আজকে এখানে বিদ্যুৎ মন্ত্রী নাই, তাদেরকে তো জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।

এই সংসদ সদস্য বলেন, “রাজধানীতে যদি এরকম একটি ঘটনা ঘটে, সেখানে কতগুলো বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কী ভয়াবহ অবস্থা হয়েছে! অনেকগুলো বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। ‌এই যে ক্ষতিগ্রস্ত যেটা হয়েছে এটার দায় কার? কে নেবে এর দায়?

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই এই বিভাগকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিতে হবে যে ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ বিভাগের যারা লাইন নির্মাণ করেছে, এইগুলোর সেইফটি নিশ্চিত করতে হবে। এখানে বেআইনি যারা গ্যাস সংযোগ নিচ্ছে, যারা বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগ নিচ্ছে, এইগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে প্রতিনিয়ত এইভাবে মানুষ মরবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত© ২০২১ বিজনেস ডাইজেস্ট বিডি
Theme Customized By Theme Park BD